তোমাদের উঠোনে কি বৃষ্টি নামে? রেলগাড়ি থামে?
বলো থামে?
হাসো কেন? প্লিজ, বলো নামে –
নামে বৃষ্টি হুশহুশ ধোঁয়ায়?
ঘরের ফুসফুস ভরে ওঠে হঠাৎ উত্তুরে হাওয়ায়!
নামে বৃষ্টি ঝরঝরে খোয়ায়?
সবজি ক্ষেত পাতা ভরে তুলে রাখে ছাই?
পাটকরা শাড়ির ভাঁজের মতো সাদা ছাই?
ইস্ত্রি–ভাঙা জামাকাপড়ের মতো কালো ছাই?
মখমলের মতো পাছা তুলে হঠাৎ এক লাল গাই
চেনায় ভিজিয়ে দেয় সুপারিসারির একলা পথ?
পসলা–বৃষ্টি ধুয়ে দেয় মাটি?
ছাইগাদা?
ডানা থেকে আগুন ঝরিয়ে দিয়ে সোনার মোরগ
দাঁড়ায় পাখ–টান করে হঠাৎ কোক্কোরো কোক্?
বলো, পাহাড়তলির মতো লাগে জানালার কাছে শুয়ে?
আকাশ উপুড় করে ঢেলে দেয় কাঁচের জামবাটি?
উঠোন চকচক করে ওঠে আয়নার মতো? অবিশ্রাম জানালার পাশে?
ছাই ওড়ে ?
ধুলো যায় দুপুরের হাওয়া গাড়ি চড়ে?
খড়খড়ি মাতিয়ে বৃষ্টি ঝরে?
বলো বৃষ্টি নামে মনে? বৃষ্টি নামে বরবটিপুর জংশনে?
চশমার কাঁচের মতো বৃষ্টির ঘষায় মনে পড়ে?
মটরশুঁটির মতো চুপি–চুপি এক গুমটি–ঘরে
স্বর্ণলতা হঠাৎ দুহাত টেনে পথিক বসায় আশেপাশে?
তোমাদের উঠোনে কি বৃষ্টি নামে?
থামে রেলগাড়ি?
ধোঁয়া ছাড়ে থইথই মাটি?
আবার ঝরঝরে লাগে রোদ, ধুলো, ছাই?
মন থেকে বনসাঁই পথ ঘুরে আবার বৃষ্টির ঝালর নামিয়ে রাখে দিন
তুমি উঠে বসো সর্বাঙ্গীন
মেঘে–মেঘে হারায় চেকনাই?
উপরন্তু শোন তুমি ছেঁড়া–বৃষ্টি করমচা পাতার
ঠিকানা হারিয়ে ফেলে মাছির ডানায় রাখে তার
হাজার সাঁতার?
ওকি! হাসো কেন? বলো নামে?
তোমাদের উঠোনে কি বৃষ্টি নামে? রেলগাড়ি থামে?
মন–গড়া বৃষ্টি নিয়ে মন–গড়া ট্রেন
মন–গড়া রেললাইন ছেড়ে দিয়ে ঝিকঝিক খোঁয়ার বহর নিয়ে থামে এসে
তোমার ঘুমের মশারির কাছে? বালিশের পাহাড়ের কাছে?
ঘাসের কাছের কোনো এক ইস্টিশনে?
ঘাসের হাতের কাছে অচিরাৎ তুমিও বসে পড়ো
ঘাসের ফুলের মতো অতিসাধারণ কোনো প্যাসেঞ্জার হয়ে এককোণে
বসে থাকো কুয়াশায়? ধুলোর কাঁকরও
পায়ের চপ্পলসহ পায়চারি রেখে বসে পড়ে,
নিমের গাছের নিচে হাঁটুমুড়ে বসে থাকে শীত –
হাঁফ ছাড়ে গাড়ির মতন?
চোখ বোজো।
চোখ বুজে দেখ তুমি ব্রীজ –
রেলওয়ের দিগন্ত নিয়ে যায় ঐ দূর প্রবল নীলিমার সুপারিবাড়ির সদরের
রেলগাড়ি নিয়ে যায় শীত
যায় বেঁকেচূরে
অড়হড় ক্ষেতের পাশ ঘেঁসে
কাঁটামেহেদির ঝোপ ফেলে
ছাঁটা–মাথা–নতুন সুরকির পথ – যেন সিঁথি লাল
শীতের চুলের ফাঁকে কনকনে বাতাসে এলোমেলো
উত্তুরে হাওয়ার হুহু টান
পথে–পথে বিলি করে যায় কার নিঃসঙ্গ দিনের পত্রাবলি
এরই মধ্যে টালির বাড়ির ছাইগাদা
ফোটায় অতীব্র তীব্র ফুল
চায়ের লিকারের মতো টগবগে লাল
শালিকের চেহারার মতো ঠিক – মনে হয় মৃত আজ সমস্ত রুমাল
শালিকের চেয়ে বেশি নির্জন মাস্তুল :
তার মানে, তোমার গলায় এখন খয়েরি মাফলার
মানে ঠান্ডা খুব, শীত খুব–নিচু স্বরে
শীতের নদীর মতো কে যে কাকে ডাকে!
শোন তুমি – এসে পড়ে ঝাপসা রেলগাড়ি
বৃষ্টি আরো তড়িঘড়ি
তুমি হাসো। এ কি হাসো কেন?
বলো থামে রেলগাড়ি? বলো নামে জোর বৃষ্টি? নামে?
হাতিশুঁড় ঝোপে
পাখি ও পাপড়ি বুঝি এক হয়ে যায়?
পাতা থেকে পাখি বুঝি জেগে ওঠে সকালের ডালে?
সমপাপড়ির মতো ভেঙে যায় কাছের কুয়াশা?
অসংখ্য পাতার উদগমে
পথিক এখনো পথ ভ্রমে
অবশেষে এই পথে চলে আসে দুরন্ত উপত্যকায়?
এই খাড়া পথে?
বলো,
সকাল বিকাল দলমত নির্বিশেষে
নির্জন এখনো একা পায়
তোমাকে? ইস্কুল থেকে ফেরাপথ
একাকী তোমাকে পেয়ে যায়?
বারো মাস
ছুটি চাও? অবসর চাও?
নাকি
লেট হয়ে গেলে
তোমাদের অফিসের স্টাফবাস
তোমাকে কদাচিৎ একা করে যায়?
ছুটি মেলে
অর্জিত? আমার কবিতার
বাকি
ছত্রগুলি পড়ে ফেলতে চাও, অবসর চাও
বলো, ঘুম পায়?
হাতের তলায় হাই তুলে
দাঁড়াও জানালায়?
আবার বৃষ্টির ছাঁট লাগে সারা মুখে?
আবার রেলের গাড়ি উঠোনের কাদায় দাঁড়ায় এসে রুখে?
ধুলো ও কাপড় ওড়ে? দেখ চোখের চশমা খুলে
একটি গাছ রৌদ্র ও ছায়ার কাপড়চোপড়গুলি গুছিয়েগাছিয়ে রাখে
আর একটি গাছের হতশ্রী সংসারের
সবুজ আলনায়?
বান্ধবী পাঠায় পাতা ভরে
নিরুত্তর?
শিরীষের পাতায় প্রচুর
কাটাকাটি হয়?
তোমাদের উঠোনে কি বৃষ্টি নামে?
রেলগাড়ি থামে?
স্কুল ফাইনাল শেষ তোমার মেয়ের
ফিরে আসে ফের জানুয়ারি
ছুটি নিয়ে চলে যাও গ্রামে –
ওখানে কি সমস্ত দুপুর বৃষ্টি নামে?
কাঁঠালপাতারা ভেজে ঘামে
ঝোঁপে রোদ পড়ে সারা দিন?
হঠাৎ উঠোন জুড়ে ওড়ে ঝরাপাতা
ধুলোয় জুড়োয় গাছপালা
রেলগাড়ি থামে?
ইস্টিশানে
শালুক পাতায় ভাসে বিল
বর্ষায়? হলুদ ব্যাগ কাঁধে বয়ে খামগুলি আনে
গত সিজনের?
তোমার ছেলের ক্রিকেটের বল ভেঙেছে উইন্ডস্ক্রিন ঝকঝকে গাড়ির?
পাশের ফ্ল্যাটের মেয়েটির মতো বুঝি ছাদে গিয়ে আকাশ দাঁড়িয়ে থাকে একা?
তোমার পায়ের কাছে শুয়ে সাদা কুকুরের মতো
ঘুমায় পত্রিকার এলোমেলো পাতা?
তুমি কি এখনো খুব মানে
খোঁজো?
বল অবসর পাও? দূরে গিয়ে
চোখ বোজো?
বলো কান পেতে শোনো নাকি বৃষ্টি নামে,
রেলগাড়ি থামে –
জ্যোৎস্নায় চাকার ঝড় তুলে
চাঁদ পড়ে ঝুলে –
পশমের মাফলারের মতো চাঁদ
অনিদ্র ছাদের নিঃসঙ্গ কোণের মতো একফালি চাঁদ
বলো, চোখ বুজে দেখ নাকি ক্যাম্বিসের ব্যাগ হাতে
একজন নির্জন মানুষ
পথে নামে?
তোমাদের উঠোনে কি বৃষ্টি নামে? রেলগাড়ি থামে?
বলো থামে?
হাসো কেন? প্লিজ, বলো নামে –
নামে বৃষ্টি হুশহুশ ধোঁয়ায়?
ঘরের ফুসফুস ভরে ওঠে হঠাৎ উত্তুরে হাওয়ায়!
নামে বৃষ্টি ঝরঝরে খোয়ায়?
সবজি ক্ষেত পাতা ভরে তুলে রাখে ছাই?
পাটকরা শাড়ির ভাঁজের মতো সাদা ছাই?
ইস্ত্রি–ভাঙা জামাকাপড়ের মতো কালো ছাই?
মখমলের মতো পাছা তুলে হঠাৎ এক লাল গাই
চেনায় ভিজিয়ে দেয় সুপারিসারির একলা পথ?
পসলা–বৃষ্টি ধুয়ে দেয় মাটি?
ছাইগাদা?
ডানা থেকে আগুন ঝরিয়ে দিয়ে সোনার মোরগ
দাঁড়ায় পাখ–টান করে হঠাৎ কোক্কোরো কোক্?
বলো, পাহাড়তলির মতো লাগে জানালার কাছে শুয়ে?
আকাশ উপুড় করে ঢেলে দেয় কাঁচের জামবাটি?
উঠোন চকচক করে ওঠে আয়নার মতো? অবিশ্রাম জানালার পাশে?
ছাই ওড়ে ?
ধুলো যায় দুপুরের হাওয়া গাড়ি চড়ে?
খড়খড়ি মাতিয়ে বৃষ্টি ঝরে?
বলো বৃষ্টি নামে মনে? বৃষ্টি নামে বরবটিপুর জংশনে?
চশমার কাঁচের মতো বৃষ্টির ঘষায় মনে পড়ে?
মটরশুঁটির মতো চুপি–চুপি এক গুমটি–ঘরে
স্বর্ণলতা হঠাৎ দুহাত টেনে পথিক বসায় আশেপাশে?
তোমাদের উঠোনে কি বৃষ্টি নামে?
থামে রেলগাড়ি?
ধোঁয়া ছাড়ে থইথই মাটি?
আবার ঝরঝরে লাগে রোদ, ধুলো, ছাই?
মন থেকে বনসাঁই পথ ঘুরে আবার বৃষ্টির ঝালর নামিয়ে রাখে দিন
তুমি উঠে বসো সর্বাঙ্গীন
মেঘে–মেঘে হারায় চেকনাই?
উপরন্তু শোন তুমি ছেঁড়া–বৃষ্টি করমচা পাতার
ঠিকানা হারিয়ে ফেলে মাছির ডানায় রাখে তার
হাজার সাঁতার?
ওকি! হাসো কেন? বলো নামে?
তোমাদের উঠোনে কি বৃষ্টি নামে? রেলগাড়ি থামে?
মন–গড়া বৃষ্টি নিয়ে মন–গড়া ট্রেন
মন–গড়া রেললাইন ছেড়ে দিয়ে ঝিকঝিক খোঁয়ার বহর নিয়ে থামে এসে
তোমার ঘুমের মশারির কাছে? বালিশের পাহাড়ের কাছে?
ঘাসের কাছের কোনো এক ইস্টিশনে?
ঘাসের হাতের কাছে অচিরাৎ তুমিও বসে পড়ো
ঘাসের ফুলের মতো অতিসাধারণ কোনো প্যাসেঞ্জার হয়ে এককোণে
বসে থাকো কুয়াশায়? ধুলোর কাঁকরও
পায়ের চপ্পলসহ পায়চারি রেখে বসে পড়ে,
নিমের গাছের নিচে হাঁটুমুড়ে বসে থাকে শীত –
হাঁফ ছাড়ে গাড়ির মতন?
চোখ বোজো।
চোখ বুজে দেখ তুমি ব্রীজ –
রেলওয়ের দিগন্ত নিয়ে যায় ঐ দূর প্রবল নীলিমার সুপারিবাড়ির সদরের
রেলগাড়ি নিয়ে যায় শীত
যায় বেঁকেচূরে
অড়হড় ক্ষেতের পাশ ঘেঁসে
কাঁটামেহেদির ঝোপ ফেলে
ছাঁটা–মাথা–নতুন সুরকির পথ – যেন সিঁথি লাল
শীতের চুলের ফাঁকে কনকনে বাতাসে এলোমেলো
উত্তুরে হাওয়ার হুহু টান
পথে–পথে বিলি করে যায় কার নিঃসঙ্গ দিনের পত্রাবলি
এরই মধ্যে টালির বাড়ির ছাইগাদা
ফোটায় অতীব্র তীব্র ফুল
চায়ের লিকারের মতো টগবগে লাল
শালিকের চেহারার মতো ঠিক – মনে হয় মৃত আজ সমস্ত রুমাল
শালিকের চেয়ে বেশি নির্জন মাস্তুল :
তার মানে, তোমার গলায় এখন খয়েরি মাফলার
মানে ঠান্ডা খুব, শীত খুব–নিচু স্বরে
শীতের নদীর মতো কে যে কাকে ডাকে!
শোন তুমি – এসে পড়ে ঝাপসা রেলগাড়ি
বৃষ্টি আরো তড়িঘড়ি
তুমি হাসো। এ কি হাসো কেন?
বলো থামে রেলগাড়ি? বলো নামে জোর বৃষ্টি? নামে?
হাতিশুঁড় ঝোপে
পাখি ও পাপড়ি বুঝি এক হয়ে যায়?
পাতা থেকে পাখি বুঝি জেগে ওঠে সকালের ডালে?
সমপাপড়ির মতো ভেঙে যায় কাছের কুয়াশা?
অসংখ্য পাতার উদগমে
পথিক এখনো পথ ভ্রমে
অবশেষে এই পথে চলে আসে দুরন্ত উপত্যকায়?
এই খাড়া পথে?
বলো,
সকাল বিকাল দলমত নির্বিশেষে
নির্জন এখনো একা পায়
তোমাকে? ইস্কুল থেকে ফেরাপথ
একাকী তোমাকে পেয়ে যায়?
বারো মাস
ছুটি চাও? অবসর চাও?
নাকি
লেট হয়ে গেলে
তোমাদের অফিসের স্টাফবাস
তোমাকে কদাচিৎ একা করে যায়?
ছুটি মেলে
অর্জিত? আমার কবিতার
বাকি
ছত্রগুলি পড়ে ফেলতে চাও, অবসর চাও
বলো, ঘুম পায়?
হাতের তলায় হাই তুলে
দাঁড়াও জানালায়?
আবার বৃষ্টির ছাঁট লাগে সারা মুখে?
আবার রেলের গাড়ি উঠোনের কাদায় দাঁড়ায় এসে রুখে?
ধুলো ও কাপড় ওড়ে? দেখ চোখের চশমা খুলে
একটি গাছ রৌদ্র ও ছায়ার কাপড়চোপড়গুলি গুছিয়েগাছিয়ে রাখে
আর একটি গাছের হতশ্রী সংসারের
সবুজ আলনায়?
বান্ধবী পাঠায় পাতা ভরে
নিরুত্তর?
শিরীষের পাতায় প্রচুর
কাটাকাটি হয়?
তোমাদের উঠোনে কি বৃষ্টি নামে?
রেলগাড়ি থামে?
স্কুল ফাইনাল শেষ তোমার মেয়ের
ফিরে আসে ফের জানুয়ারি
ছুটি নিয়ে চলে যাও গ্রামে –
ওখানে কি সমস্ত দুপুর বৃষ্টি নামে?
কাঁঠালপাতারা ভেজে ঘামে
ঝোঁপে রোদ পড়ে সারা দিন?
হঠাৎ উঠোন জুড়ে ওড়ে ঝরাপাতা
ধুলোয় জুড়োয় গাছপালা
রেলগাড়ি থামে?
ইস্টিশানে
শালুক পাতায় ভাসে বিল
বর্ষায়? হলুদ ব্যাগ কাঁধে বয়ে খামগুলি আনে
গত সিজনের?
তোমার ছেলের ক্রিকেটের বল ভেঙেছে উইন্ডস্ক্রিন ঝকঝকে গাড়ির?
পাশের ফ্ল্যাটের মেয়েটির মতো বুঝি ছাদে গিয়ে আকাশ দাঁড়িয়ে থাকে একা?
তোমার পায়ের কাছে শুয়ে সাদা কুকুরের মতো
ঘুমায় পত্রিকার এলোমেলো পাতা?
তুমি কি এখনো খুব মানে
খোঁজো?
বল অবসর পাও? দূরে গিয়ে
চোখ বোজো?
বলো কান পেতে শোনো নাকি বৃষ্টি নামে,
রেলগাড়ি থামে –
জ্যোৎস্নায় চাকার ঝড় তুলে
চাঁদ পড়ে ঝুলে –
পশমের মাফলারের মতো চাঁদ
অনিদ্র ছাদের নিঃসঙ্গ কোণের মতো একফালি চাঁদ
বলো, চোখ বুজে দেখ নাকি ক্যাম্বিসের ব্যাগ হাতে
একজন নির্জন মানুষ
পথে নামে?
তোমাদের উঠোনে কি বৃষ্টি নামে? রেলগাড়ি থামে?
0 Comments